| বঙ্গাব্দ

নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ও সংস্কার নিয়ে তারেক রহমানের ভাষণ | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-02-2026 ইং
  • 1215676 বার পঠিত
নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ও সংস্কার নিয়ে তারেক রহমানের ভাষণ | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের ভাষণ


নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না: জাতির উদ্দেশে তারেক রহমান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সাল এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর দেশ যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দোড়গোড়ায়, তখন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হবে না। নাগরিকদের দুর্বল রেখে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করা অসম্ভব।"

১৯০০-২০২৬: শতাব্দীর রাজনৈতিক পরিক্রমা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের যে স্ফুলিঙ্গ এই জনপদে জ্বলে উঠেছিল, তার মূল লক্ষ্যই ছিল স্বাধিকার ও মুক্তি। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মাইলফলকের মূলে ছিল জনগণের সার্বভৌমত্ব।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে 'রাষ্ট্র মেরামতের' চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে। তারেক রহমান তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, বিগত ১৬ বছরে শাসক শ্রেণি সরকারি পদ-পদবিকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছিল, যা ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা বাঙালির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ভোটাধিকারের নতুন দর্শন

তারেক রহমান বলেন, "ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে কুক্ষিগত থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। আমরা স্থানীয় পরিষদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের ভোটাধিকার পৌঁছে দিতে চাই।" তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কেবল সংবিধান মোতাবেক পরিচালিত হবে। শাসকরা নিজেদের জনগণের মালিক মনে করবে না, বরং তারা হবে সেবক।

পাচার হওয়া অর্থ ও জনকল্যাণমূলক অর্থনীতি

দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে এক সাহসী পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, "দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেওয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের পকেটে দিতে চাই।"

তরুণ প্রজন্ম ও আগামীর বাংলাদেশ

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়নই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।" তিনি লড়াইকে কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।

ভাষণের শেষে তারেক রহমান একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই ভাষণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের বিষয়টি রাজনীতির নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, বিএনপি মিডিয়া উইং, জাতীয় আর্কাইভ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency